|| মাটি এন্টারটেইনমেন্ট

প্রকাশিত: ১৮:১৫, ২৪ জুলাই ২০২১
আপডেট: ১৮:১৮, ২৪ জুলাই ২০২১

একাত্তরের কণ্ঠযোদ্ধা ফকির আলমগীর সম্পর্কে অজানা কিছু কথা


Notice: Trying to access array offset on value of type null in /mnt/volume_sgp1_04/met34v6b0d/public_html/details.php on line 293
|| মাটি এন্টারটেইনমেন্ট

প্রকাশিত: ১৮:১৫, ২৪ জুলাই ২০২১
আপডেট: ১৮:১৮, ২৪ জুলাই ২০২১
একাত্তরের কণ্ঠযোদ্ধা ফকির আলমগীর সম্পর্কে অজানা কিছু কথা

এম ই টিভি ডেস্ক:

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাতে মারা যান একাত্তরের কণ্ঠযোদ্ধা, গণসংগীত শিল্পী ফকির আলমগীর। তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শোক প্রকাশ করেছেন।

শনিবার সকাল ১১টায় খিলগাঁওয়ের পল্লীমা সংসদ মাঠে এই বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়; সেখানে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

ফকির আলমগীরের জন্ম ১৯৫০ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর জেলার ভাঙা থানার কালামৃধা গ্রামে। কালামৃধা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি ভর্তি হন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকে স্নাতক শেষ করে স্নাতকোত্তর করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে।

ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে ফকির আলমগীর জড়িয়ে যান বাম ধারার ছাত্র রাজনীতিতে। গণসংগীতের সঙ্গে যুক্ত ক্রান্তি শিল্পী গোষ্ঠী ও গণশিল্পী গোষ্ঠীর সদস্য হিসেব ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে শামিল হন ফকির আলমগীর । ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তিনি যোগ দেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে।

নব্বইয়ে সামরিক শাসনবিরোধী গণ-আন্দোলনে প্রতিবাদী গানে ফকির আলমগীরের সরব উপস্থিতি তাকে তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয়তার নতুন মাত্রায় নিয়ে যায়। তবে তার আগেই মাকে নিয়ে লেখা তার আরেকটি গান মানুষের মুখে মুখে ফিরত। ‘মায়ের একধার দুধের দাম’ গানটি অবরোধ নামে একটি চলচ্চিত্র ও কাজী হায়াৎ পরিচালিত চলচ্চিত্র 'বর্তমান' সিনেমাতে ব্যবহৃত হয়

‘মন আমার দেহ ঘড়ি’, ‘আহারে কাল্লু মাতব্বর’, ‘ জুলেখা’, ‘ঘর করলাম না রে আমি’, ‘সান্তাহার জংশনে দেখা’, বনমালী তুমি’সহ তার গাওয়া অনেক গান আশি ও নব্বইয়ের দশকে দারুণ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল

নেলসন ম্যান্ডেলার জন্মদিন উপলক্ষে গাওয়া একটি গান ছিল ফকির আলমগীরের নিজের কাছেই প্রিয় ছিল। ১৯৯৭ সালের মার্চে বাংলাদেশের স্বাধীনতার রজতজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নেলসন ম্যান্ডেলা যখন বাংলাদেশে এসেছিলেন, সে সময় তাকে নিয়ে লেখা সেই ‘কালো কালো মানুষের দেশে’ গানটি শুনিয়েছিলেন ফকির আলমগীর। আবার সাভারের রানা প্লাজা ট্র্যাজেডিও তার গানে এসেছে

যে গানের চরিত্রের বড় ভূমিকা ছিল ফকির আলমগীরের গণমানুষের শিল্পী হয়ে ওঠার পেছনে, তার নাম সখিনা। ১৯৮২ সালে বিটিভিতে ঈদের আনন্দমেলায় ‘ও সখিনা গেছস কিনা ভুইলা আমারে’ গানটি প্রচারের পর দর্শকদের মাঝে সাড়া পড়ে যায়। কণ্ঠ দেয়ার পাশাপাশি গানটির সুরও করেছিলেন ফকির আলমগীর। গানটি লেখেন আলতাফ আলী হাসু।

পরে আশির দশকের শেষভাগে তিনি লেখেন ‘চল সখিনা দুবাই যাব, দ্যাশে বড় দুঃখরে’। তার কণ্ঠের সেই গানটিও বেশ আলোচনার জন্ম দেয়।

২০১৬ সালে ফকির আলমগীর এক নিবন্ধে তার সেই সখিনার গল্প লিখেছেন সবিস্তারে। তিনি লেখেন, “সখিনা আবহমান বাংলার প্রেমিকা ও বধূ, কারও কাছে সে দুঃখিনী পল্লীবালা আবার কারও কাছে আহ্লাদী বোন। কারও কাছে সে বন্যায় ভেসে যাওয়া বিক্ষুব্ধ চিৎকার। এই সখিনা কখনো রিকশাওয়ালার প্রিয়তমা স্ত্রী আবার কখনও কারখানার শ্রমজীবী নারী, কখনও বা ফুটপাতের ইটভাঙা শ্রমিক।”

সাংস্কৃতিক সংগঠন ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী প্রতিষ্ঠা করেন ফকির আলমগীর। গণসংগীত চর্চার আরেক সংগঠন গণসংগীত শিল্পী পরিষদের সভাপতি এবং সম্মিলিত সাংস্কৃতি জোটের সহ-সভাপতির দায়িত্বও তিনি পালন করেছেন

গানের পাশাপাশি নিয়মিত লেখালেখির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন এই শিল্পী। ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও বিজয়ের গান’, ‘গণসংগীতের অতীত ও বর্তমান’, ‘আমার কথা’, ‘যারা আছেন হৃদয় পটে’সহ বেশ কয়েকটি বই প্রকাশ হয়েছে তার

বাংলাদেশের গণসংগীতে অবদানের জন্য ১৯৯৯ সালে ফকির আলমগীরকে একুশে পদক দেয়। এছাড়া শেরেবাংলা পদক, ভাসানী পদক, জসীমউদ্‌দীন স্বর্ণপদক, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সম্মাননাও তিনি পেয়েছেন

স্ত্রী সুরাইয়া আলমগীর এবং তিন ছেলেকে রেখে গেছেন ফকির আলমগীর

‘ও সখিনা’ কিংবা ‘মায়ের একধার দুধের নাম’ গানগুলো এ দেশের মানুষকে ঝাঁকড়া চুলের দরাজ গলার এই শিল্পীর কথা মনে করিয়ে দেবে সবসময়।