|| মাটি এন্টারটেইনমেন্ট

প্রকাশিত: ১৬:৫৬, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২১

কেন সমালোচিত হতে ভয় পাবেন না?


Notice: Trying to access array offset on value of type null in /mnt/volume_sgp1_04/met34v6b0d/public_html/details.php on line 293
|| মাটি এন্টারটেইনমেন্ট

প্রকাশিত: ১৬:৫৬, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২১
কেন সমালোচিত হতে ভয় পাবেন না?

নিজের উপর চাপ নিবেন কেন বলেন? আমাদের আশে পাশে সবাই কিছু না কিছুর জন্য দোষী। কিন্তু যখন অন্যর দোষ আমরা ধরি তখন কিন্তু নিজের দোষ দেখতে পাই না। তাহলে রিভারস সাইকোলজি (Reverse Physiology) তে আসেন আমরা সবাই যেমন দোষী তেমনি আমরা সবাই আমাদের দোষ দারাই ক্ষতিগ্রস্থ। তো ক্ষতিগ্রস্থ যখন সবাই তখন আর সমালোচনার কি আছে বলেন? আজ আপনার বিরুদ্ধে সমালোচনা তো কাল আমার বিরুদ্ধে। সবার সমালোচনা হয়, কারো ব্যক্তিগত পর্যায় কারো জাতীয় পর্যায়ে। তাই সমালোচিত হওয়ার ভয় পাওয়া ঠিক নয়। যেহেতু আপনি যত ভালো কাজই করেন না কেন, কেও না কেও আপনাকে সমালোচনা করবে, আপনার সমালোচনা হবেই, তাই আগের থেকে মনকে শক্ত করা ভালো।

 

অনেকে তার নিজের দোষে সমালোচিত হন, অনেকে কিছু না করেই সমালোচিত হন। সময়ের ব্যবধানে অনেক সময় সমালোচনা আলোচনা হয়ে উঠে, সেই সমালোচিত ব্যক্তি হয়ে যান আলোচিত। আলোচনা সমালোচনা যমজ দুই ভাই। সব সময় সাথে সাথে থাকে। একে অপরের পরিপূরক। তাই সমালোচনা খারাপ না। আপনি যদি জনগণের মুখোমুখি হওয়ার কোন কাজ করেন (যেমন - জনপ্রতিনিধি) তাহলে আপনাকে ধরেই নিতে হবে যে আপনি আলোচিত সমালোচিত দুইটাই হবেন, কারণ আপনার এমন কাজ করেন যেখানে আপনার কাজের মূল্যায়ন সাধারণ জনগন করতে পারে।

 

আমাদের অধিকাংশ সমালোচিত হলে নিতে পারি না। অনেক বিরক্ত এবং রাগ হই। কিন্তু ভেবে দেখেন আপনার ব্যাপারে সমালোচনা আছে মানে আপনাকে নিয়ে আলোচনা আছে। তবে তাই বলে ইচ্ছা করে সমালোচিত কেউ মনে হয় হতে চাননা। তাছাড়া জাতীয় জীবনে সমালোচিত হওয়ার ভিতরে এক ধরনের তৃপ্তি আছে কিন্তু ব্যক্তি জীবনে সমালোচিত হওয়া এবং তার বিনিময়ে আলোচনায় থাকা বিড়ম্বনার। তবে যত যাই হোক, আমরা যে যতই ভালো কাজ করি আমরা কেউ কখনো সমালোচনার উর্ধ্বে না। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। এই আলোচনা সমালোচনা নিয়েই মানুষের জীবন। আর এই সমালোচনা এবং আলোচনা নিয়ে আলোচনা করাও জীবন।

 

তবে সমালোচনার ক্ষেত্রে একটি বিষয় আলোচনায় রাখা প্রয়োজন সেটি হল ব্যক্তিগত সততা। আপনি সৎ মানুষ হলে আপনি যদি ভুল কারনেও সমালোচিত হন, সময় ঠিকই একসময় আপনার পাশে এসে দাঁড়ায়। খারাপ মানুষ সাময়িক বিজয়ের আনন্দ পেলেও, সৎ মানুষ দীর্ঘস্থায়ী মানুষিক শান্তি ভোগ করে। সারা দুনিয়ার সাথে একমাত্র একজন সৎ বিবেকবান মানুষ যুদ্ধ করতে পারে। যা দুষ্টু লোকেরা পারে না।

 

এখন সমস্যা হল যদি দুষ্ট লোকের সংখ্যা বেশী হয় তাহলে সৎ মানুষ কি করবে? সে ক্ষেত্রে উত্তর হল বিজয়ীরা যা করে তাই করবে, বাঁধা পেরিয়ে নিজ উদ্যমে এগিয়ে যাবে। তবে সমালোচনার জবাব দেওয়া উচিত কিনা সে প্রশ্নের দুইটি উত্তর থাকতে পারে, যেমন ১। জবাব দেওয়া উচিৎ, না হলে লোকে মিথ্যা সমালোচনাকে সত্য মনে করবে; ২। জবাব না দেওয়া এবং বিষয়টি সময়ের উপর ছেড়ে দেওয়া, কারন সময় সকল মিথ্যার জন্য যম। দুই দিন পরে হলেও মিথ্যার মুখোশ উন্মোচিত হবে। এখন ডিজিটাল যুগে এটি আরও সত্য। তাই বলা যায় যদি আমরা ব্যক্তি জীবনে সৎ, বিবেকবান মানুষ হওয়ার চেষ্টা করি তাহলে সমালোচিত হওয়ার ভয় করার দরকার নাই।

 

কেনো আমি এই প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা করছি? কারণ সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনা এবং সমালোচনা  - দুইটি বিষয় তার নির্দিষ্ট সংজ্ঞা হারিয়েছে। দুইটি টার্ম একে অপরের মাঝে বিলীন হয়ে গেছে। কারণ আমাদের সামাজিক মূল্যবোধ এবং আইনের শাসন টাকা বা প্রাচুর্যের কাছে নির্মমভাবে পরাজিত হয়ে আই সি ইউ তে আছে। সামাজিক মূল্যবোধের পরাজয় কেনো সমালোচনার সংগাহীনতার কারণ? কারণ হলো একজন সমালোচনা মানে হলে ঋণাত্মক কথা, একটু নেগেটিভ কথা। কেউ খারাপ কাজ করলে আমরা তার সমালোচনা করি। আর ভালো কাজ করলে আলোচনা। কিন্তুু এখন অর্থ এবং ক্ষমতার জোরে সামাজিক ভাবে অগ্রহণযোগ্য কাজ ওই নির্দিষ্ট ব্যাক্তি বা ব্যক্তিবর্গের জন্য আলোচনায় পরিণত হচ্ছে যেটি যদি সাধারণ মানুষ করত তবে সমালোচিত হত। তাই বলছি, সমালোচিত হওয়ার বিষয়টি নিজেই এখন সমালোচনার পাত্র, তাই সমালোচিত হলে ভয়ের কিছু নাই। আপনি ভালো করুন খারাপ করুন আপনাকে নিয়ে সমালোচনা আলোচনা দুইটাই হবে - আপনি এই বিষয়ে নিশ্চিত থাকুন।

 

তাই সমালোচনা হবেই, আলোচনা হবেই। জীবনের প্রয়োজনেই আলোচনা সমালোচনা হবেই।  এটাই বাস্তবতা। কোনো কাজ করার মানে হল, কাজ মূল্যায়ন যোগ্য। সেটি সামাজিক ভাবেই আর আইনগত ভাবেই। সেই মূল্যায়ন হয় যার যার জায়গা থেকে। মানুষ ভেদে মূল্যায়ন। সেই ভাবে অধিকাংশ মানুষের মাঝে যেটি কমন মূল্যায়ন, সেটাই গ্রহণযোগ্য হলে সময়ের পরিক্রমায় আইনের মাধ্যমে বা সামাজিক নিয়মদ্বারা প্রতিষ্ঠিত, প্রয়োগকৃত এবং বিশ্লেষিত। তাই এই জটিল ক্রিয়ার ক্রীড়নক হিসেবে আমাদের আলোচনা সমালোচনা চলবে। সমাজ নিজেও সমালোচিত এবং আলোচিত। তাই এই আলোচনা সমালোচনা স্বাভাবিক। এটাই সাইন্স। এটিকে স্বাভাবিক নিয়ম মেনে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা নিয়ে চলা উচিত। আর আইন এবং সামাজিক রীতিনীতি মেনে চলার পরেও যদি আপনি  সমালোচিত হন তাহলে আসলেই কিছু করার নাই। এই জন্য আগে থেকে মনকে শক্ত করা প্রয়োজন।